হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন

সংস্থার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন একটি সুইজারল্যান্ড ভিত্তিক আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা যা ২০১১ সালে গঠিত হয়েছিল হেলভেটাস ও ইন্টারকোঅপারেশন নামক সুইজারল্যান্ডের দুইটি পৃথক সংগঠন একীভ‚ত হওয়ার মাধ্যমে। ২০০০ সালে থেকে এই প্রতিষ্টান বাংলাদেশে কার্যক্রম শুরু করে এবং বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠান সংক্ষেপে হেলভেটাস বাংলাদেশ নামে পরিচিত। এই প্রতিষ্টানের কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য হলো সামাজিক, অর্থনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতায়ন এবং অধিকতর জনবান্ধব সরকারি ও বেসরকারি সেবাসমূহে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধির মাধ্যমে এদেশের জনগণের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত অংশের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন তথা আত্মনির্ভরশীলতা বৃদ্ধিতে অবদান রাখা। এছাড়াও বিগত বছর নতুনভাবে হেলভেটাস বাংলাদেশ শ্রম অভিবাসনকে নিরাপদ, নিয়মতান্ত্রিক ও মর্যাদাপূর্ণ করার লক্ষ্যে কার্যক্রম শুরু করে যার অন্যতম লক্ষ্য হল: একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীকে সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে লাভবান করা যেখানে তরুন কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীকে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষমতায়নের মাধ্যমে দেশের দারিদ্রতা বিমোচন ও বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে অবদান রাখা।

শ্রম অভিবাসন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বিরাট অবদান রাখছে এবং প্রতিবছর গড়ে ৫ থেকে ৭ লাখ কর্মক্ষম জনগোষ্ঠী বিদেশে শ্রম অভিবাসনের সুযোগ গ্রহণ করছে। অভিবাসনের মাধ্যমে যেমন আমাদের বিপুল একটি জনগোষ্ঠীর কর্মসংস্থান হচ্ছে তেমনি এই খাত থেকে প্রতিবছর গড়ে প্রায় ১৮ বিলিয়ন ইউএস ডলার রেমিটেন্স দেশে আসছে যা অর্থনীতির চাকাকে  প্রতিনিয়ত সচল রাখছে। যদিও আমাদের কর্মীরা বিদেশে যাচ্ছেন কিন্তু নিরাপদ, সুশৃংখল ও নিরাপদ উপায়ে অভিবাসন শতভাগ সুনিশ্চিত করার ক্ষেত্রে উন্নয়নের সুযোগ আছে। অভিবাসন প্রক্রিয়ায় সুশাসন ও তথ্যের সহজলভ্যতা সুনিশ্চিত করতে সুইজারল্যান্ড সরকারের অর্থায়নে হেলভেটাস সুইস ইন্টারকোঅপারেশন স্ট্রেংথেনেড এন্ড ইনফরমেটিভ মাইগ্রেশন সিস্টেম – সিমস (SIMS) নামক চারবছর মেয়াদী  একটি প্রকল্প গ্রহণ করেছে যা দেশের অভিবাসন প্রবণ ৩টি জেলায় (যথাঃ কুমিল্লা, চট্টগ্রাম ও নরসিংদী) নানাবিধ কর্মসূচি গ্রহনের মাধ্যমে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত বাস্তবায়িত হবে। জাতীয় পর্যায়ে এই প্রজেক্ট প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রনালয়, তার অধ:স্তন সংস্থা এবং অন্যান্য সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সাথে অভিবাসন ইস্যুতে নানাভাকে কাজ করবে যাতে নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত হয়।

এই প্রকল্পের লক্ষ্য হলো: অভিবাসন ব্যবস্থাপনায় সুশাসন ও নিরাপদ অভিবাসনের অনুশীলন প্রান্তিক পর্যায়ের নারী পুরুষের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা করা।

প্রকল্পটি নিচের তিনটি আউটকাম বাস্তবাায়নের মাধ্যমে প্রকল্পটি লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য  বাস্তবায়ন করবে যা নিন্মরুপ:

আউটকাম-১: অভিবাসী নারী ও পুরুষ শ্রমিক অভিবাসনের সর্বোচ্চ অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা ও ঝুঁকি  সম্পর্কে অবগত হয়ে অভিবাসনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

আউটকাম-২: অভিবাসনকে নিরাপদ করতে সরকারী এবং বেসরকারী সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রয়োজনীয় নতুন বা উন্নত পরিষেবা সরবরাহ করবে।

আউটকাম-৩: রেমিট্যান্সের সঠিক ও সুচিন্তিত বিনিয়োগের মাধ্যমে অভিবাসী ও তাদের পরিবারবর্গবাহ্যিক ঝুঁকিসমূহ হ্রাস  করতে সমর্থ হবে।

সিমস (SIMS)  প্রকল্পটিকে সুইস কোঅপারেশন এর বাংলাদেশ প্রেক্ষাপটে তৈরিকৃত ২০১৮-২১ কৌশলগত পরিকল্পনায় নতুন ভাবে অন্তর্ভুক্ত নিরাপদ অভিবাসনের অন্যতম স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যা অভিবাসনের প্রধান প্রতিবন্ধকতাসম‚হকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রণীত হয়েছে। এই প্রকল্পটিতে তথ্যের ঘাটতি, উচ্চ অভিবাসন ব্যয়, শোভন কাজের সুযোগ, অভিবাসনের সর্বোচ্চ সুবিধা আদায় করার অক্ষমতা, অভিবাসন সংক্রান্ত অভিযোগ নিস্পত্তি ও ন্যায়বিচার না পাওয়া ইত্যাদি বিষয়সমূহ শ্রম অভিবাসনের প্রধান প্রতিবন্ধকতা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের জাতীয় উন্নয়ন পরিকল্পনা নীতি ও উন্নয়ন কৌশলের সাথে সমন্বয় করে সিমস (SIMS) প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকারের অভিবাসন ব্যবস্থাপনা কাঠামো উন্নয়ন ও নিরাপদ করণের বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যেমন: বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী আইন ২০১৩, বৈদেশিক কর্মসংস্থান নীতি ২০১৬, সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুসারে আধা দক্ষ হতে দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা ২০৩০ সালের মধ্যে ৩৫% হতে ৫০% এ উন্নীত করণ ইত্যাদি। বর্তমান সরকারের ”ভিশন-২০২১”-এর অন্যতম লক্ষ্যমাত্রা ২০২১ সালের মধ্যে মধ্যম আয়ের দেশে রূপান্তরিত হওয়া এবং এই লক্ষ্যমাত্রা পুরণে সরকার দারিদ্র বিমোচন, বিকল্প কর্মসংস্থান ও রেমিট্যান্সের সর্বোচ্চ বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে শ্রম অভিবাসন একটি অন্যতম কৌশল। সরকারের বিভিন্ন নীতি ও কাঠামোতে উল্লেখিত অভিবাসন সেবাসমূহকে উন্নত ও জোরদারকরণে  সিমস (SIMS) প্রকল্পের কার্যক্রমসমূহ কার্যকরী অবদান রাখবে।

এছাড়া, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মস্থান মন্ত্রণালয়,  বিএমইটি ও অন্যান্য সরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের দক্ষ জনগোষ্ঠী তৈরী ও নিরাপদ অভিবাসনের প্রচেষ্টার সাথে সমন্বয় রেখেও সিমস (SIMS) প্রকল্পটি প্রণীত হয়েছে। সরকার ইতিমধ্যে শ্রম অভিবাসনকে প্রাধান্য দিয়ে জাতীয় দক্ষতা উন্নয়ন পদ্ধতি আধুনিক ও উন্নত করার পাশাপাশি অভিবাসী শ্রমিক গ্রহণকারী দেশের চাহিদা অনুসারে দক্ষতা উন্নয়ন ও স্বীকৃতি প্রদান, শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্র ও বাসস্থান নিরাপদ করা এবং অভিবাসনকে নিরাপদ করার জন্য কাজ করছে যা রেমিটেন্স আয়ের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। এছাড়াও উক্ত প্রকল্প, তৃণম‚ল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি কার্যক্রমের মাধ্যমে জনসাধারণকে দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণের গুরুত্ব অনুধাবন ও দক্ষ শ্রমিক হিসেবে অভিবাসনে প্রভাবিত করবে। শ্রম অভিবাসনের সার্বিক প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি সম্পর্কে অবহিত হয়ে শ্রমিকদের নিজ সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ, অভিবাসনের সকল ধাপে (অভিবাসন পূর্ব, অভিবাসনকালীন এবং অভিবাসন পরবর্তী) অভিবাসীর মানসিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনঃএকত্রীকরণে অভিবাসীর পরিবার ও সরকারি-বেসরকারি সেবা প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সেবা কার্যক্রম জোরদারকরণের মাধ্যমে সিমস (SIMS) প্রকল্প অভিবাসী শ্রমিক ও তাদের পরিবারবর্গের কল্যাণ ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে।

অভিবাসন বিষয়ে কার্যক্রম ও সেবা সমূহ

প্রকল্পটি ২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস থেকে কার্যক্রম শুরুর জন্য দাতা সংস্থার অনুমোদন লাভ করে। কিন্তু কভিড’১৯ মহামারীর সার্বিক প্রভাব, এনজিও বিষয়ক ব্যুরো’র অনুমোদনসহ অন্যান্য প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রম গ্রহনের মাধ্যমে সহযোগী সংস্থা চুড়ান্তভাবে নির্বাচন করে মাঠ পর্যায়ের কার্যক্রমসমূহ পুরোপুরি শুরু করতে পারেনি। বর্তমানে সহযোগী সংস্থাসমূহ নির্বাচন এবং চুক্তি সম্পাদন প্রক্রিয়া চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে যা ২০২১ সালের জানুয়ারী থেকে কার্যকর হয়ে মাঠ পর্যায়ে কার্যক্রম পরিচালনা করবে। চট্টগ্রাম জেলায় সহযোগী সংস্থা হিসেবে স্থানীয় এনজিও প্রত্যাশী (PROTTYASHI) চুড়ান্তভাবে মনোনীত হয়েছে। আমরা আশা করছি, অতিশিঘ্রই প্রত্যাশী তার কর্ম এলাকায় কার্যক্রম পরিচালিত করবে এবং প্রকল্প মেয়াদ শেষে এই প্রকল্প উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লক্ষিত/ টার্গেট জনগোষ্ঠীকে নিম্নলিখিত প্রত্যাশিত ফলাফল অর্জন করতে সহায়তা করবেঃ 

  • তৃণম‚ল পর্যায়ের লক্ষিত জনসাধারণ নিরাপদ অভিবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত এবং অনিরাপদ শ্রম অভিবাসন ও মানব পাচারের পরিণতি সম্পর্কে অবহিত হবে।
  • শ্রম অভিবাসন প্রত্যাশী সকল নারী ও পুরুষ যথাযথভাবে প্রাক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ওরিয়েন্টেশন বা প্রাক- কর্মসংস্থান (পিইও) এবং প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (পিডিও) প্রাপ্ত হবে।
  • শ্রম অভিবাসন প্রত্যাশী সকল নারী ও পুরুষ কার্যকরী ও প্রয়োজনীয় দক্ষতা বৃদ্ধিম‚লক সেবা কার্যক্রমের সাথে সংযোজিত হবে।
  • সকল অভিবাসী নারী ও পুরুষ কর্মী অভিবাসন সংক্রান্ত সকল অভিযোগ ও দ্ব›দ্ব নিরসনে আইনী তথ্য ও সহায়তা প্রাপ্তিতে প্রবেশাধিকার বৃদ্ধি পাবে।
  • টিটিসি, ডেমো এবং স্থানীয় সরকারি প্রতিষ্ঠানসমূহ প্রাক-কর্মসংস্থান ও প্রাক-বহির্গমন ওরিয়েন্টেশন (অবহিতকরণ) সেবা প্রদানের জন্য সহায়তা করা।
  • বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তি (এডিআর) কর্তৃপক্ষ, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা, বিএমইটি আরবিট্রেশন সেল এবং প্রথাগত বিচার ব্যবস্থার উল্লেখযোগ্য এক্টরসহ অন্যান্য আইনী সহায়তা প্রদানকারী সংস্থাসমূহের কার্যক্রম জোরদার হবে।
  • সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো অভিবাসন সহায়ক আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও উদ্যোক্তা প্রশিক্ষণ প্রদান করবে।
  • অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যরা আর্থিক ব্যবস্থাপনার উপর প্রশিক্ষিত হবে এবং টেকসই ব্যবসায় সম্পৃক্ত হবে।

ভৌগলিক পরিব্যাপ্তি

এই প্রকল্পটি দেশের দুটি বিভাগের অধীন ৩টি জেলার (নরসিংদি, কুমিল্লা ও চট্টগ্রাম) ২৩টি উপজেলাতে কার্যক্রম পরিচালনা করবে যা সরাসরি ১১৫টি ইউনিয়নে কার্যক্রম বিস্তৃত রাখতে সচেষ্ট হযে যাতে অভিবাসন ইস্যুতে স্থানীয় পর্যায়ে অবদান রাখতে পারে । এখানে উল্লেখ্য যে, সিমস (SIMS) চট্টগ্রাম জেলার অভিবাসনপ্রবণ আটটি উপজেলায় (প্রতি উপজেলার অভিবাসনপ্রবণ ৫টি করে ইউনিয়ন মোট ৪০টি ইউনিয়ন) অভিবাসন সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিচালনা করবে।  উপজেলাগুলো হল:

১.        আনোয়ারা
২.        চন্দনাইশ
৩.        বোয়ালখালী
৪.        পটিয়া
৫.        রাউজান
৬.        রাঙ্গুনিয়া
৭.        ফটিকছড়ি ও
৮.        হাটহাজারী উপজেলা।

অভিবাসন বিষয়ে বিশেষ অর্জন ও সফলতা সমূহ

প্রকল্পটির সহযোগী সংস্থা নির্বাচন প্রক্রিয়া চুড়ান্ত পর্যায়ে সম্পন্ন করেছে। এই ধারাবাহিকতায় আশা করা যায় ২০২১ সালের জানুয়ারী মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মাঠ পর্য়ায়ের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু করে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী সকল কার্যক্রম মানসম্মতভাবে নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে অর্জন করতে সচেষ্ট থাকবে। যেমন: প্রকল্পের গৃহীত কার্যক্রমের মাধ্যমে প্রকল্প মেয়াদে কমপক্ষে ১০,০০,০০০  (দশ লাখ) তৃণমূল সংশ্লিষ্ট জনগোষ্ঠীকে নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসন বিষয়ে সচেতন করা, শ্রম অভিবাসন সংশ্লিষ্ট সকল সরকারি- বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবা কার্যক্রম উন্নত ও জোরদারকরণে বিশেষ গুরুত্ব আরোপ, সরাসরি ১,০০,০০ জনগোষ্ঠীর (যেখানে কমপক্ষে ৬০% নারী ও পুরুষ অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের) আর্থ- সামাজিক উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করবে।  চট্টগ্রাম জেলাতে এই প্রকল্পের লক্ষ্যমাত্রা সর্বোমোট ৩৫০,০০০ জন।

সিমস প্রকল্পটি প্রান্তিক পর্যায়ের দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা প্রদান ও সার্বিক উন্নয়নের জন্য ৩ টি অভিবাসন প্রবণ জেলার ২৩ টি উপজেলাতে কার্যক্রম বাস্তবায়ন করবে। প্রকল্পটির মাধ্যমে প্রায় ১২,০০০ অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের দক্ষতা উন্নয়ন ও কর্মসংস্থানের জন্য জেলা পর্যায়ে অবস্থিত কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র (টিটিসি) ও বেসরকারি প্রশিক্ষণকেন্দ্রের সাথে সংযোগ স্থাপনের ও সেবা প্রাপ্তির অভিগম্যতা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরণের কর্মস‚চি বাস্তবায়ন করবে।

প্রতারিত অভিবাসীরা যাতে ন্যায় বিচার পায় এবং সরকারি আইনী সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ও স্টেইকহোল্ডাররা যাতে এই ইস্যুতে সহায়তা করতে পারে সিমস প্রজেক্ট এই লক্ষ্যেও কাজ করবে। তাই এই প্রকল্পে মাইগ্রেশন এনজিও ছাড়াও একটি লিগাল এইড এনজিও প্রকল্পের সাথে সম্পৃক্ত হয়ে অভিবাসীর মানবাধিকার নিশ্চিতকরণে কাজ করবে ও জাতীয় পর্যায়ে আইন ও নীতিমালা প্রনয়নে সহায়তা করবে।

অভিবাসী কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের সাথে কাজ করার মাধ্যমে প্রকল্পটি কর্মএলাকায় (কুমিল্লা, নরসিংদী ও চট্টগ্রাম জেলাতে) প্রায় সকল ধরণের কমিউনিটির সাথে কাজ করার সুযোগ সৃষ্টি করবে।

এছাড়া প্রকল্পটি অভিবাসীদের সার্বিক জীবনমান অর্জনের জন্য কাজ করে যাবে। পাশাপাশি বিভিন্ন সরকারি, বেসরকারি সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকারের সাথে অভিবাসী ও তাদের পরিবারের সরাসরি সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করার মাধ্যমে একটি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর কাছে প্রত্যাশিত ফলাফল পৌঁছে দেয়া যাবে বলে আশা করা যাচ্ছে।

অন্যদিকে ৩টি ডেমো ও ৪টি টিটিসি সরাসরি প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হবে বলে আশা করা যায়। এছাড়া চট্টগ্রাম আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের প্রবাসী কল্যাণ ডেস্কের সক্ষমতাও প্রকল্পের মধ্যে বৃদ্ধি পাবে। বিভিন্ন দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি ও সেবা সহায়তার মধ্যে ঐসকল প্রতিষ্ঠানের সেবার মান উন্নয়ন হবে, যার সুফল ভোগ করবে অত্র অঞ্চলের সকল জনগোষ্ঠী।

সার্বিকভাবে, প্রকল্পের মাধ্যমে কর্মএলাকা হতে নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল অভিবাসন ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত হবে যা আশা করা যায়। সম্প্রতি মরণঘাতি কভিড’১৯ এর শিকার বা ক্ষতিগ্রস্থ ফেরত অভিবাসীদের একটি অংশের চাহিদা যাচাই করে এই প্রকল্পটি তাদের পুনরেকত্রীকরণ বা রিইন্ট্রিগ্রেশনে সহায়তা করবে।

যোগাযোগ

ক্যাটরিন রোজেনবার্গ, টিম লিডার: সিমস প্রজেক্ট (প্রজেক্ট ফোকাল)

বাড়ী নং ঃ ৩০ সিডব্লিউএন (এ), সড়ক-৪২/৪৩, গুলশান-২, ঢাকা, বাংলাদেশ।

+৮৮-০২-৪৮৩১৫৪০৫-৯

www.helvetas.org/en/bangladesh

Katrin.Rosenberg@helvetas.org

facebook.com/helvetas.org/