ঘাসফুল

banner

সংস্থার সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

Logo of Ghashfulনানারকম প্রতিকুল ও অনাদৃত পরিবেশে শোভাবর্ধন করে যে ফুল নিজের অবস্থান জানান দেয় তার নাম: ঘাসফুল। সংস্থার প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত শামসুন্নাহার রহমান পরাণ অবহেলিত ও দলিত জনগোষ্ঠীর প্রতীক হিসেবে সংস্থার নামকরণ করেন “ঘাসফুল”। মহান মুক্তিযুদ্ধের পরবর্তী সংকটে ত্রাণ কার্যক্রম দিয়ে শুরু হয় সংস্থার যাত্রা। গত ৪৮বছর ধরে সংস্থাটি ঘাসফুলের মতো সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠী, বিশেষত নারী, শিশু-কিশোরদের মানবমর্যাদা প্রতিষ্ঠায় নানামুখি উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করছে। যার প্রধান লক্ষ্য “সচেতন, স্বর্নিভর বাংলাদেশ যেখানে সকলের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত হবে। ক্ষুদ্র অর্থায়ন ও নিরাপত্তা কার্যক্রমে ঘাসফুল তিনটি ভিন্নধারাকে অগ্রাধিকার দেয়। কনভেনশনাল মাইক্রোফিন্যান্স- গ্রামীণ ও নগর অর্থনীতিতে উন্নয়ন সাধন, গ্রীনমাইক্রোফিন্যান্স – কৃষি ও পরিবেশবান্ধব প্রযুক্তির ব্যবহার ও উন্নয়ন, ঝুকিঁনিরসন ও আর্থিক অর্ন্তভুক্তিকরণ কার্যক্রম। সংস্থার ক্ষুদ্রউদ্যোগ ঋণ, সম্পদ সৃষ্টি ঋণ, কৃষিঋণ, জীবনমান উন্নয়ন ঋণের আওতাভুক্ত সদস্যরা ঋণের যথাযথ ব্যবহার ও প্রশিক্ষণ গ্রহণের মাধ্যমে নিজেদেরকে সফল ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠা করছে। শিক্ষাখাতে ঘাসফুল চট্টগ্রামের নগর ও গ্রামে শ্রমজীবী শিশু ও অন্যান্য ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষাসেবায় ২২০টি স্কুল / কেন্দ্র পরিচালনা করছে। এছাড়াও ঘাসফুল কর্ম-এলাকার সুবিধাবঞ্চিত বিশেষ জনগোষ্ঠী; ভিক্ষুক, প্রতিবন্ধী, প্রবীণ, হরিজন, সাঁওতাল স¤প্রদায়ের জন্য বিশেষ কর্মসূচি পরিচালনা করছে। দীর্ঘদিন ধরে ঘাসফুল ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রম থেকে উদ্বুত আয় দিয়ে বিভিন্ন ধরণের সামাজিক নিরাপত্তা ও উন্নয়নমুলক কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। ঘাসফুল নিজস্ব অর্থায়নে মাদারবাড়ি সেবককলোনীতে ‘শিশুবিকাশ কেন্দ্র’, স্থায়ী ক্লিনিক ও বিভিন্নস্থানে স্যাটেলাইট ক্লিনিকের মাধ্যমে চট্টগ্রামে বিভিন্নস্থানে স্বাস্থ্যসেবা, গার্মেন্টস কর্মীদের সচেতনতা ও স্বাস্থ্যসেবা প্রদান এবং মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানদের উন্নত শিক্ষানিশ্চিতকরণে ‘ঘাসফুল পরাণ রহমান স্কুল’ পরিচালনা করছে। ঘাসফুল নিজস্ব অর্থায়নে দুর্যোগ মোকাবেলায় কর্ম-এলাকায় Ghashful Rescue Team (GRT) এবং সুশাসন, নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধে একাধিক কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকে। ইতোমধ্যে ঘাসফুলের উদ্যোগে বহু ভিক্ষুককে স্থায়ীভাবে পুর্নবাসন, প্রবীণকে নিয়মিত বয়স্কভাতা প্রদান করা হয়। এছাড়াও প্রবীণদের বিশেষ সহায়তা, সম্মাননা প্রদান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রাম ও নওগাঁ জেলার গ্রামের দুস্থ রোগীকে বিনামূল্যে চোখের ছানি অপারেশন, চশমা বিতরণ করা হচ্ছে। ঘাসফুল এর উদ্যোগে সাড়ে তিনহাজার কর্মজীবীশিশু, স্কুল ছাত্রছাত্রীদের স্কুল ব্যাকিং এর আওতায় আনা হয়েছে।

আমরা মনেকরি বাংলাদেশে কর্মরত অন্যান্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সমূহের মধ্যে ঘাসফুলের বিশেষত্ব বিবেচনায় তিনটি বিষয়কে গুরুত্ব দেয়া যায়। প্রথমত: আশির দশকে ঘাসফুলই দেশে প্রথম হরিজন সম্প্রদায়ের (সুইপার) শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও অর্থনৈতিক উন্নয়নে কাজ শুরু করে।  দ্বিতীয়ত ; ঘাসফুল প্রথম চট্টগ্রামে ১৯৮২ সালে বে-অব-বেঙ্গল প্রজেক্টের মাধ্যমে উপকুলীয় জেলেদের উন্নয়নে কাজ শুরু করে। তৃতীয়ত ; ১৯৯০ সালে ঘাসফুল দেশে প্রথম পোষাক শ্রমিকদের স্বাস্থ্যশিক্ষা ও পেশাগত উন্নয়নে বই প্রণয়ন ও প্রশিক্ষণের কার্যক্রম শুরু করে। চতুর্থত : ঘাসফুল দাতা সংস্থাদের উপর নির্ভর না করে নিজস্ব অর্থায়নে দীর্ঘমেয়াদি বহু উন্নয়নমুলক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। ঘাসফুল পিকেএসএফের সহায়তায় সমৃদ্ধি কর্মসূচির আওতায় হাটহাজারী উপজেলার ০২টি ইউনিয়নে অবকাঠামো নির্মানসহ কমিউনিটির চাহিদা মোতাবেক কালভার্ট, প্রাচীর দেয়াল নির্মাণ, দরিদ্র পরিবারসমূহের সম্পদ ও সক্ষমতাবৃদ্ধির লক্ষ্যে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যুবপ্রশিক্ষণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টিসহ নানা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ঘাসফুল ক্ষুদ্রঋণের পাশাপাশি বায়োগ্যাস, জৈবসার উৎপাদন, উন্নতচুলা, সৌরবিদ্যুৎসহ বাড়ির আঙ্গিনায় সবজিচাষেব্যাপক অর্থায়ন ও সহায়তা করছে। সংস্থা  বৈদেশিক রেমিটেন্স সেবা, ক্ষুদ্রঋণের ঝুকি নিরসনে সেবা প্রদানের পাশাপাশি গবাদি পশুপালনে ঝুঁকি নিরসন,  নিরাপদ সবজি ও মশল্লা জাতীয় ফসলের বাজার উন্নয়নের মাধ্যমে কৃষকের আয়বৃদ্ধিকরণ প্রকল্প,কৃষিখাতে উদ্যোক্তা তৈরী, বিষমুক্ত চাষাবাদ, নারী ও শিশুনির্যাতন এবং বাল্যবিয়ে ও শিশুশ্রম প্রতিরোধ, জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ উন্নয়ন,  প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে রাসায়নিক বিষমুক্ত আম উৎপাদনসহ নানান বিষয়ে উন্নয়ন কার্যক্রমের মাধ্যমে ইতিবাচক অবদান রাখছে। সংস্থার সকল কার্যক্রমে ডিজিটালাইজেশন নিশ্চিত করা সহ ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে গ্রাহক পর্যায়ে ক্যাশলেস ও পেপারলেস লেন-দেন প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে।

ঘাসফুল ইতোপূর্বে রাষ্ট্রপতি জনসংখ্যা পুরস্কারসহ জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ প্রতিষ্ঠান, শ্রেষ্ঠকর্মী পুরস্কার অর্জন করে। সংস্থার হিসাবব্যবস্থাপনা এবং ক্ষুদ্রঋণ কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের লক্ষ্যে স্বচ্ছতার জন্য আইসিএবি হতে National award for Best Published Accounts and Reports 2010 এবং ২০১৫ সালে সার্টিফিকেট অব মেরিট, ‘Second Position’ 19th National Award for Best Published Accounts’ and Reports 2019 & In 2019 Ghashful received joint 1st Runner Up Non- Governmental Organizations from South Asian Federation of Accountants (SAFA). পুরস্কার লাভ করে । Ghashful received ‘Potential Product Award 2017’

from PKSF. যুদ্ধ পরবর্তী যেকোন দূর্যোগসহ ১৯৮৮ সালের বন্যা, ১৯৯১ সালের ঘূর্ণিঝড়, ২০০৬ সালে চট্টগ্রামের পাহাড়ধসে দূর্গত/ক্ষত-বিক্ষত এবং ২০১৬ সালে ভয়াবহ ঘুর্ণিঝড় রোয়ানু’র আঘাতে ক্ষতিগ্রস্থ মানুষের পাশে ছিল ঘাসফুল। তাছাড়া নেপালে ভয়াবহ ভূমিকম্পেও ঘাসফুল সাহায্যের হাত বাড়ায়। বর্তমানে সংস্থায় দেশীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশাপাশি প্যানসেলভেনিয়া, ব্রাসেলসসহ বিভিন্ন বিদেশী স্বনামধন্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা ইন্টার্নশীপ ও অভিজ্ঞতা অর্জন করতে নিয়মিত ঘাসফুলে আসছে। সংস্থার দক্ষ মানবসম্পদ ও দৃশ্যমান অজর্নসমূহ সংস্থাকে তার লক্ষ্য অর্জনে অগ্রগামী করছে।

অভিবাসন বিষয়ে কার্যক্রম ও সেবা সমূহ

  • ঘাসফুল ক্ষুদ্র অর্থয়ান ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কার্যক্রমের আওতায় সংস্থার প্রশিক্ষিত কর্মীদের মাধ্যমে সমিতিগুলোতে বিদেশে কাজের সুবিধা, অসুবিধা ও অবৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার পরিনতি ইত্যাদি বিয়য়ে সচেতনতামূলক আলোচনা করা হয়। গত এক বছরে প্রায় ১০,০০০জন সদস্যকে  এ বিষয়ে সচেতন করা হয় ।
  • ঘাসফুল ক্ষুদ্র অর্থয়ান ও আর্থিক অন্তর্ভুক্তিকরণ কার্যক্রমের আওতায় বিদেশ ফেরত কিংবা পুনরায় বিদেশগামী অভিবাসীদের দেশে আত্ম-কর্মসংস্থান সৃষ্টি কিংবা বাইরে যাওয়ার জন্য আর্থিক (সহজ শর্তে) যোগান নিশ্চিত করা হয়।
  • ঘাসফুল ইয়ুথ ডেভেলপমেন্ট থ্রু এসহেনসিং প্রগ্রেসিভ স্কিল এন্ড ক্রিয়েটিভিটি (ইয়েস) প্রকল্পের অধীনে বিদেশ যেতে ইচ্ছুক তরুণদের বিভিন্ন বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। এছাড়া কোন দেশে কি ধরনের কর্মসংস্থান রয়েছে তার তথ্য প্রদান করা হয়। এ পর্যন্ত ইয়েস প্রকল্পের অধীনে ১৬৯জন তরুণকে প্রশিক্ষিত করা হয়।
  • ইয়েস প্রকল্পের মাধ্যমে তরুণদের অবৈধ পথে বিদেশ না যেতে এবং যথাযথ প্রক্রিয়ায় যাওয়ার জন্য সচেতন ও উদ্বুদ্ধ করা হয়।
  • ঘাসফুল তার কর্ম-এলাকায় (চট্টগ্রাম, ফেনী, কুমিল্লা, ঢাকা, নওগাঁ ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ) সংস্থার সদস্যদের মধ্যে বিদেশে কেউ মৃত্যু বরণ করলে কিংবা অন্য কোন সমস্যায় পড়লে ঘাসফুল এর উদ্যোগে জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিসসহ সহায়তাকারী সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে দেয়। ( এডভোকেসী কার্যক্রম)
আলোকচিত্র
Yard meeting
মাঠ পর্য়ায়ে সদস্যদের সচেতনতামূলক সভা
Training 2
ইয়েস প্রকল্পের আওতায় তরুণীদের সেলাই বিষয়ক প্রশিক্ষণ
ইয়েস প্রকল্পের আওতায় তরুণদের আইসিটি বিষয়ক প্রশিক্ষণ
Awareness meeting
ইয়েস প্রকল্পের আওতায় সচেতনতামূলক সভা

যোগাযোগের ঠিকানা

এম. এ. মঞ্জুরী, বাড়ী নং # ৫/ ডি, বাদশা মিয়া চৌধুরী রোড (ওয়ারসিমেট্রি এর বিপরীতে) আমিরবাগ, চট্টগ্রাম

031 2858613, 031 2868768, 01777780755

ghashful@ghashful-bd.org

www.ghashful-bd.org

facebook.com/Ghashfulbd